About Me

করোনা ভাইরাসে প্রবাসীদের মৃত্যু হলে তাদের কি দেশে পাঠিয়ে দেয়? নাকি বিদেশে দাফন করে?

সংগৃহীত ছবি

বাস্তব এটাই যে প্রবাসীর মৃত্যু যে দেশে -সেই দেশেই তার কবর সম্পন্ন

মঙ্গলবার: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং।

প্রবাসীরা দুটো পয়সা আয় করার জন্য, পরিবার পরিজন ত্যাগ করে নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমায় বিদেশের মাটিতে। সেখানে শুরু হয় নতুন এক সংগ্ৰামী জীবন, নতুন ভাষা, নতুন মানুষের সাথে সংসার বাধা। যেমনটি নতুন একটি বৌ শশুরবাড়ি আসলে, সবার সাথে ধীরে ধীরে সম্পর্ক স্থাপন গভীর করে নেয়। একজন প্রবাসীর বেলায় ঠিক একিই রকম। তবে বিদেশের মাটিতে কাজ করলেও মন পড়ে থাকে দেশে পরিবারের কাছে, মা বাবা শিশু বা সন্তানের কাছে। যে উদ্দেশ্যে বিদেশে এসেছে সেটা সফল করেই আবার দেশে ছুটিতে গিয়ে পরিবারের সাথে মিলিত হবে। কত আশা নিয়ে পরদেশে আসে প্রবাসীরা।

কিন্তু কে জানত এভাবেই সব আশা আকাঙ্ক্ষা নিমিষেই মাটি হয়ে যাবে?

প্রবাসীরাতো জানতো না যে করোনা ভাইরাস নামক একটি মৃত্যুর মিছিল দুনিয়াতে আসবে। যেটা মুহূর্তে শেষ করে দিতে পারে অনেক দিনের আশা, ভরসা এবং পরিকল্পনা। 

বাস্তব এটাই যা মানুষ জানে না, কিন্তু সৃষ্টি কর্তার পরিকল্পনা চকে কোন হেরফের নেই। সময়মত সব কিছু হচ্ছে, কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। 

পুরো পৃথিবী থমকে গেছে, ধস নেমেছে অর্থনৈতিক খাতে, চলে গেছে অসংখ্য প্রাণ, হারিয়েছে কাছের অনেক আত্মীয় স্বজন। কখন কিভাবে এই ভাইরাস পৃথিবী থেকে বিদায় নিবে কারো জানা নাই। একমাত্র তিনিই জানেন যিনি এই পৃথিবীটা তৈরি করেছেন।

আরো পড়ুন:

আবুধাবিতে প্রবেশ করার জন্য কভিড-১৯ পরীক্ষার প্রয়োজন নেই

প্রবাসীরা কোন একদিন মা বাবা বা পরিবারের কাছে পূনরায় ফিরে যাবেন, এটি সকল প্রবাসীদের মনে ধারন করে থাকেন। মৃত্যু যেন নিজ দেশে হয় সেটাও তারা চান। কিন্তু মৃত্যু যে বিদেশের মাটিতে লেখা আছে সেটা কি তারা জানে? জানে না। কারণ সেটি একমাত্র তার সৃষ্টিকর্তার হাতে। 

নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে একজন প্রবাসী মারা গেলে তাকে সমস্ত ছাড়পত্রের কাজ গুলো সেড়ে দেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, এবং সেটি এখনো চলমান রয়েছে। কিন্তু করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেলে, তাকে আর নিজ দেশে পাঠানো হয় না। কারণ যেহেতু সে সংক্রমিত হয়ে মারা গেছে, তাই তার দ্বারা যাতে আরেক জন ব্যক্তি সংক্রমিত হয়ে না যায়, সেজন্য তাকে বিদেশের মাটিতে কবর দেয়া হয়। সরকারি নিয়মে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেউ  মারা গেলে, তাকে সেই দেশে দাফন করা হয়, নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়না।

কিন্তু প্রবাসীরা তো কখনো এমন আশা করেনি, যে বিদেশের মাটিতে তাদের দাফন করা হোক।

দেশের নিজ জন্মভূমিতে কাউকে কবর দেয়া হলেও তার মধ্যে একটা স্বস্তি আছে, যেমন দাফন করার পর তার পরিবার বর্গ বা তার সন্তানরা ঐ কবরের পাশে গিয়ে মৃত বাবার জন্য, কবর জিয়ারত করতে বা আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতে পারে।

যেন তাকে আল্লাহ সমস্ত দুনিয়াবি গুনাহ মাফ এবং বেহেস্ত নসিব করেন। অন্তত সাপ্তাহিক জুমার দিনে, ঐ কবরে পাশে মুসল্লিরা গিয়ে হাজিরা দিতে পারে।

কিন্তু পরদেশে কে কাকে পাবে, কোথায় দেশ এবং কোথায় বিদেশ, বহুদুরের পথ চাইলেও অনেক কিছু সম্ভব নয়। বিদেশের মাটিতেও দোয়া, জিয়ারত সব কিছু হয় কিন্তু দেশের মত তো আর প্রবাসে হয় না।

কারণ প্রবাসে প্রতিটি মানুষ যার যার কর্মব্যস্ততা এবং সময় পেলে একটু পরিবারের সাথে ফোনে আলাপ করা এভাবেই জীবন চলে যায়।

বিদেশে একটা জিনিস চোখে পড়ার মতো, যা সত্যিই প্রসংসনীয়। যেমন করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় অনেক এ্যাডভান্স, এবং সবাই সরকারের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, যার কারনে দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসতে সক্ষম হয়।

মুলত আল্লাহ তায়ালা যেখানে আমাদের মৃত্যু নিশ্চিত করেছেন, সেখানেই হবে। দেশ কিংবা বিদেশ কোন ভেদাভেদ নেই। কিন্তু সেটা আমরা আবেগের কারণে মেনে নিতে পারিনা।

পরিবার বর্গ আত্মীয় স্বজন পৃথিবীর যেখান থেকেই মৃত ব্যক্তির জন্য দোয়া করুক না কেন, সেটা আল্লাহ তায়ালার কাছে কবুল হতে পারে, আমরা বিশ্বাস করি মনে প্রাণে।

অতএব প্রত্যেক মানুষকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে, এবং তার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে।

যেমন দুনিয়াতে জীবিত অবস্থায় এমন কিছু ভালো কাজ করা যা মৃত্যুর পর কবরে উচিলা হয়ে কেয়ামত পর্যন্ত সওয়াব পৌঁছতে পারে। প্রত্যেক প্রবাসীদের উচিত প্রবাসে থাকাকালীন, সবার কাছ থেকেই যেন ক্ষমা চেয়ে নেয়, কারন মৃত্যুর পর ক্ষমা চাওয়ার আর কোন সুযোগ নেই, আমরা দোষে গুণে মানুষ, দোষের উর্দ্ধে নয়, গুণীজনদের মতে, যে ব্যক্তি সব সময় ক্ষমা প্রার্থনা করে তিনি অনেক মহৎ।

পরিশেষে পৃথিবীতে যত প্রবাসী এখনো আল্লাহর অশেষ মেহেরবানীতে বেঁচে আছে, সবাইকে সুস্বাস্থ্য রক্ষায়, মুখে মাস্ক পড়া, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাফেরা করা সহ কভিড-১৯ প্রটোকল মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। কারণ একজন প্রবাসী সুস্থ থাকলে পরিবার বা দেশ লাভবান হবে।

প্রবাসীদের প্রিয়-

Chattala somoy tv















একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ