About Me

ম্যালওয়্যার কী? কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার কিভাবে কাজ করে?

 

ম্যালওয়্যার কী? কম্পিউটার বা স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার কিভাবে কাজ করে? 

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১ ইং 

কম্পিউটারে কোন কাজ করতে হলে সেটি প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হয় । সাধারণভাবে কম্পিউটারে দুই ধরনের প্রোগ্রাম থাকে একটি হলো সিস্টেম সফটওয়্যার এবং অপরটি এপ্লিকেশন সফটওয়্যার।  গুগল ম্যাপে কিভাবে বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা যুক্ত করবো?

সিস্টেম সফটওয়্যার কম্পিউটারের হার্ডওয়ার সমূহকে যথাযথভাবে ব্যবহারের পরিবেশ নিশ্চিত রাখে অন্যদিকে এপ্লিকেশন সফটওয়্যার কোন বিশেষ কাজ সম্পন্ন করে। যেসকল সফটওয়্যারের সঙ্গে আমাদের পরিচয় বেশি ; যেমন - অফিস ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার, ডাটাবেজ সফটওয়্যার, ব্রাউজার ইত্যাদি। কোন সফটওয়্যার কাজ করে তখন এর কিছু অংশ কম্পিউটারের প্রধান মেমোরি তে অবস্থান নেয় এবং বাকি অংশগুলো অপারেটিং সিস্টেমের সহায়তায় অন্য কার্যাবলী সম্পন্ন করে। 

আবার এমন প্রোগ্রামিং কোড লেখা সম্ভব যে, সকল সফটওয়্যার এর কাজে বিঘ্ন ঘটাতে পারে । বিভিন্ন হার্ডওয়ারের সফটওয়্যার ইন্টারফেস বিনষ্ট করতে পারে। এমনকি সম্পূর্ণ কম্পিউটারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে ফেলতে পারে। যেহেতু এ ধরনের প্রোগ্রামিং কোড বা প্রোগ্রাম গুচ্ছ কম্পিউটারের জন্য ক্ষতিকর তাই এ ধরনের সফটওয়্যার কে বলা যেতে পারে ক্ষতিকারক সফটওয়্যার বা মেলিসিয়াস সফটওয়্যার আর একেই বলে ম্যালওয়্যার। 

ম্যালওয়্যার কি ক্ষতি করে? 

ম্যালওয়ার এক ধরনের সফটওয়্যার যা কিনা অন্য সফটওয়্যারকে কাঙ্ক্ষিত কর্মসম্পাদন এ বাধার সৃষ্টি করে । আর এ বাধা অপারেটিং সিস্টেম সফটওয়্যার বা এপ্লিকেশন সফটওয়্যার এর জন্যই হতে পারে শুধু যে বাধার সৃষ্টি করে তা নয় । কোন ম্যালওয়ার ব্যবহারকারীর কম্পিউটারে রক্ষিত তথ্য চুরি করে। কোন সময় ব্যবহারকারীর অজান্তে তার কম্পিউটার সিস্টেমের প্রবেশাধিকার লাভ করে । ম্যালওয়্যার প্রোগ্রামিং কোড , স্ক্রিপ্ট সক্রিয়তার কিংবা অন্যান্য সফটওয়্যার এর মতো প্রকাশিত হতে পারে। অন্য ভাবে বলা যায় কম্পিউটারে অনুপ্রবেশকারী বিভিন্ন ধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার এর সাধারণ নামেই হল ম্যালওয়ার। 

ম্যালওয়্যার এর প্রকারভেদ: 

কম্পিউটার ভাইরাস, ট্রোজান হর্সেস, স্পাইওয়্যার, ব্যাকডোর্স, ব্লটওয়্যার, স্পাই ওয়্যার, এডওয়্যার, র‍্যানসমওয়্যার, প্রভৃতি ম্যালওয়্যারের অন্তর্ভুক্ত । অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে ক্ষতিকর সফটওয়্যার এর মধ্যে ট্রোজান হর্স, ওয়ার্ম এর সংখ্যা ভাইরাস এর চেয়ে বেশি । বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সাইবার আইনের মাধ্যমে উন্নয়ন ও প্রকাশ নিষিদ্ধ হলেও সারা বিশ্বের মধ্যে অসংখ্য ম্যালওয়্যার তৈরি হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত হচ্ছে। 

ম্যালওয়্যার কিভাবে ছড়িয়ে পড়ে? 

যে সকল কম্পিউটার সিস্টেমে সফটওয়্যার নিরাপত্তা ব্যবস্থার ত্রুটি থাকে সেসব ক্ষেত্রে নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়। কেবল নিরাপত্তা ত্রুটি নয় ডিজাইনেবল থাকলেও সফটওয়্যারটি অকার্যকর করার জন্য ম্যালওয়্যার তৈরি করা সম্ভব হয়। বর্তমান বিশ্বে প্রচলিত অপারেটিং সিস্টেমের মধ্যে উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেমের ম্যালওয়্যারের সংখ্যা অন্যান্য অপারেটিং সিস্টেম এর তুলনায় বেশি। এর একটি কারণ উইন্ডোজ ব্যবহারকারীর সংখ্যা বেশি । অপারেটিং সিস্টেম এর ভেতরর খবর কেউ জানেনা । কাজে কোন ভুল বা গলোদ কেউ বের করতে পারলে সে এটিকে ব্যবহার করে ম্যালওয়্যার তৈরি করতে পারে। ইন্টারনেটের বিকাশের আগে ম্যালওয়্যারের সংখ্যা খুবই কম ছিল। যখন থেকে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে, তখন থেকেই ম্যালওয়্যারের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। 

যে সকল ভুলের কারনে আমাদের স্মার্ট ডিভাইসে ম্যালওয়্যারের ঝুকি থেকে যায়ঃ 

১. সফটওয়্যার আপডেট ও সিস্টেম আপডেট অবহেলা করাঃ প্রতিটা সফটওয়্যার (উইন্ডোজ, ম্যাক ওএস বা লিনাক্স ডিস্ট্রো সমুহ) এ কিছু দুর্বলতা (যা বাগ নামে পরিচিত) থাকে যার কারনে আপনার ডিভাইসে হ্যাকারদের আক্রমণ করা সহজ হয়। সেই সফটওয়্যারের ডেভেলপার গণ সিকিউরিটি আপডেটের মাধ্যমে সেই দুর্বলতা বা ত্রুটি সমুহ ঠিক করার চেষ্টা করেন। আপনার সফটওয়্যার আপডেট বা সিস্টেম আপডেট না করার কারনে আপনার ডিভাইসের ত্রুটি থেকেই যায়। 

আরো পড়ুন:

ব্লক থেকে বাঁচতে ফেইসবুক পেইজ এর জন্য ওয়েবসাইটের ডোমেইন ভেরিফাই করুন

২. অপরিচিত কারো দেওয়া বা অপরিচিত কোন উৎস হতে পাওয়া ফাইল ওপেন করাঃ আপনাকে হয়ত কোন পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তি ফাইল দিলো এবং আপনি তা ওপেন করলেন। বা কোথাও থেকে আপনি কোন অফারের লিংক পেয়ে সেটিতে ক্লিক করলেন। এরকমও হতে পারে সেই সকল ফাইল বা লিংক এমন ভাবে তৈরী করা হয়েছে যা আপনার ডিভাইসে কোন ম্যালওয়্যার ইন্সটল করে দিতে পারে। 

৩. সন্দেহজনক বা ক্র্যাক সফটওয়্যার ব্যবহার করাঃ এই ক্যাটাগরীতে থাকতে পারে ফ্রি ভিডিও প্লেয়ার, কোনো কমার্শিয়াল সফটওয়্যারের ক্র্যাক ভার্শন, সেই সফটওয়্যার গুলো ডাউনলোড স্পিড বৃদ্ধি করে দাবি করতে পারে, এবং সেই সাথে আপনার সিস্টেমের পারফরমেন্স বৃদ্ধি করবে বলে দাবি করতে পারে বা অন্যান্য সন্দেহপূর্ণ দাবি করতে পারে। 

আপনি যখনই ইন্টারনেট থেকে কোন কিছু ফ্রি তে ডাউনলোড করার চেষ্টা করেন তখনই একটা সম্ভাবনা থেকে যায় আপনার কম্পিউটারের ম্যালওয়্যার দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার। এছাড়া আনঅফিসিয়াল সোর্স থেকে উইন্ডোজ আইসএও (ISO) বা লিনাক্সের কোন ডিস্ট্রিবিউশনের আইএসও বা ম্যাকওএস এর ডিএমজি ইমেজ বা কোন কাস্টম রম বা কোন ফার্মওয়্যার ফাইল ডাউনলোড করে ব্যবহার করার কারনে সিস্টেমে ম্যালওয়্যার চলে আসতে পারে। 

আরো পড়ুন:

সহজেই আয় করতে ইউটিউব আনলো নতুন পদ্ধতি

অনেক সময় সার্ভিস সেন্টারে কম্পিউটারের সফটওয়্যার সার্ভিসের সময় ব্লটওয়্যার/ম্যালওয়্যার ইন্সটল করে দিতে পারে। মনে রাখবেন, পৃথিবীতে কোন কিছুই ফ্রি তে নয়। প্রতিটা জিনিসের একটি মুল্য রয়েছে। সেই মুল্য যেন আপনার প্রাইভেসির বিনিময়ে না হয়। 

৪. আপনার স্মার্টফোনের ক্ষেত্রেও একই শর্ত প্রযোজ্য। কোন থার্ডপার্টির ওয়েবসাইটে কোন প্রো-এপিকে ফ্রি তে পেতে পারেন। সেই এপিকের সাথে আপনার ফোনে ম্যালওয়্যার বা ব্লোটওয়্যার বা অ্যাডওয়্যার খুব সহজেই চলে। 

এখান থেকে বুঝা যায় কম্পিউটার বা স্মার্টফোন ফোন ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সতর্কতার সাথে তা যথাযথভাবে ব্যবহার করা।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ