About Me

মাংস কম দেওয়ায় বিয়েতে তুমুল মারা মারি এটা কি বিয়ে?

সংগৃহীত ছবি

বিয়ে তো আনন্দের কিন্তু মারা মারি কেন? বিয়ের খাবার খেতে এসে যদি মার খেতে হয়, তাহলে কি আর ইজ্জত থাকে?

বিয়ে মানে আনন্দ উল্লাস, কিছু উপভোগ করার মত মূহুর্ত, যা নতুন কিছু বিনোদন দেয়। সুন্দর কতকিছু পরিকল্পনা হয়। যা অনেক আগে থেকেই চিন্তা করা হয়। প্রকৃতপক্ষে বিয়ের দিনটা অনেক স্মৃতি বিজড়িত হয়ে থাকে। এই দিনটি প্রত্যেক নারী পুরুষের কাছে রহস্য হয়ে আসে, যেমনটি খুবই স্পেশাল দিন। এই দিনটিকে কেন্দ্র করে মানুষ লক্ষ-কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় করে থাকে, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী। কারন বিয়ে বলে কথা।

কিন্তু সামান্য বিষয় বা অভিমানে বিয়েটি কাল হয়ে দাঁড়ায়। অপরিকল্পিত ঘটে যায় অনেক ঘটনা, যা উভয়পক্ষ আশা করেনি।

তার মধ্যে যে বিষয়গুলি নিয়ে বিয়েতে গালা-গালি, মারা-মারি, আহত-নিহত, রক্তাক্ত ঘটানাগুলো ঘটে তার মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরার চেষ্টা করবো।

১/ মাংস কম দেওয়া

২/ দেরিতে খাবার দেওয়া

৩/ বর যাত্রী হিসাবের চেয়ে বেশি হওয়া

৪/ কনে পক্ষ, বরকে গাড়ি থেকে রিসিভ করার সময় স্বাগত টাকা কম পাওয়া

৫/ নকল স্বর্ণ দিয়ে বিয়ে করা

ইত্যাদি...

পত্রিকার পাতা খুললেই এই বিষয়গুলো বর্তমানে অহরহ ঘটে, বলতে গেলে এগুলো সচারাচর হয়ে গেছে। আজকাল তো অনলাইনের যুগ, যে যুগে যেখানে এই রকম বিষয় গুলো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোঁছে যায়। তার মধ্যে অন্যতম যে বিষয়টা, সেটা হচ্ছে মাংস কম দেওয়া। এই ইস্যু নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে, মারা মারি শুরু হয়, রক্তাক্ত গুরুতর আহত হয়, একে অপরের শত্রু হয়ে যায়, আত্মীয় বন্ধন আর থাকে না। শেষ পর্যন্ত একটি মেয়ের বিয়ে ভেঙে যায়। এক কলংক অধ্যায় শুরু হয়। বদনামি রটে যায়।

প্রশ্ন হচ্ছে বর যাত্রী কি বিয়ের খাবারের আশায় অনেক দিন উপাশ ছিল? তা না হলে সুন্দর একটা বিয়ের অনুষ্ঠানে মাংস কম দেওয়া কে কেন্দ্র করে, সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। একটি মেয়ের বিয়ে ভেঙে দেয়।

সামাজিকতা রক্ষায়, সময় কোন অনুষ্ঠানে এক গ্লাস পানি পান করেও ভাত খাওয়ার কথা বলা যায়। শুধু মাত্র অনুষ্ঠানের স্বার্থে। মানুষ কতটুকু নির্লজ্জ হলে খাবার এর জন্য একটা বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে দিতে পারে?

মাংস কম দেওয়া বা বেশি দেওয়া তাতে কি আসে যায়, নিজে যদি মাংসের জন্য সভ্য কোন অনুষ্ঠানে ঝগড়া করি, নিজের ইজ্জত বাড়ে না কমে? সেটাই হচ্ছে মূল বিষয়।

মূলত বিয়ের অনুষ্ঠানে খাবার বা অন্যান্য বিষয় গুলো নিয়ে যে মারা মারি হয়, তার জন্য (বরের পরিবার ) দায়ী থাকে না। বরং বরের আত্মীয় স্বজনরা দায়ী থাকে, আত্মীয় স্বজনের মধ্যে থেকে যে কেউ এই ঘটনাগুলো ঘটিয়ে থাকে।

কিন্তু তার ফলাফল ভোগ বা দায়ভার গ্ৰহণ করতে হয়, জামাই বাবাজিকে।

মেয়ের পরিবার মেয়েকে সামাজিক ভাবে বিয়ে দেওয়ার জন্য, তিল তিল করে ঘাম ঝড়ানো শ্রমের পয়সা জমিয়ে রাখে। মেয়ের উপযুক্ত সময় হলে একটি ভালো পাত্র দেখে বিয়ে দিতে আয়োজন করে থাকে। কিন্তু তা সামান্য কারণে ধংস হয়ে যায়।

মেয়ের পরিবার অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়

যেমন-

#কমিউনিটি সেন্টারের ভাড়া

# ডেকোরেশন সহ সাজসজ্জার খরচ

#মেহেদী অনুষ্ঠানের খরচ

#বিয়ের দিনের খাবার এর খরচ

#গাড়ী ভাড়া সহ নাস্তা পানি, বিয়ের চিঠি এবং আনুষঙ্গিক আরো খরচ।

তাহলে এতটাকা লোকসানে পড়ছে মেয়ের পরিবার, মেয়ে জন্ম দেয়া অপরাধ বটেই। একটা বিয়ে ভেঙে গেলে যে পরিমাণ কনে পক্ষের ক্ষতি হয়, সেক্ষেত্রে ছেলে পক্ষের সামান্য। আবার মেয়ে হিসেবে কলংক নাকি আছে সমাজে। কিন্তু ছেলের/ বরের কোন কলংক নেই কারণ সে তো পুরুষ। যেটা সমাজ মনে করে।

যার পরিবারে, মেয়ে আছে সমাজে আমরা থাকে ছোট করে দেখি, কিন্তু যে পরিবারে শুধু ছেলেই আছে ঐ পরিবারকে বড় করে দেখি। 

সমাজ টা এমন কেন হলো?

#মেয়ে পরিবারকে যৌতুকের টাকা দিতে হবে

#মেয়ে পরিবারকে খাবার খাওয়াতে হবে

#মেয়ে পরিবারকে খাট ফালং দিতে হবে, আলমারি দিতে হবে, ডাইনিং টেবিল দিতে হবে, টিভি ফ্রিজ দিতে হবে, শাশুড় শাশুড়ি আত্মীয় স্বজনের জন্য, শাড়ি লুঙ্গি দিতে হবে, এমনকি বর পক্ষের পছন্দ অনুযায়ী দিতে হবে।

আসলে কি এটা বিয়ে/প্রীতি বন্ধন, নাকি বিয়ের নামে মেয়ের পরিবারকে সর্বশান্ত করা, কোন টা?

নির্লজ্জ চেহারা টা নিয়ে কনে পক্ষের কাছে যেভাবে, যৌতুক নামের ভিক্ষা চাই, বিভিন্ন মালামাল চাই, সেই পরিবার কখনো একটি বিবাহিত স্ত্রীকে সুখী রাখতে পারবে না। কারন ঐ ছেলে এবং তার পরিবার লোভি তাদের কৌশল এবং চিন্তাধারা প্রকৃত সমাজে কোন মূল্য নেই। যখন যৌতুকের টাকা খাওয়া শেষ হয়ে যাবে, তখন থেকে বিবাহিত স্ত্রীকে আর ভালো লাগবে না। প্রকৃতপক্ষে ঐ ছেলে মেয়েটিকে স্ত্রী হিসেবে মনে প্রাণে গ্ৰহণ করেছে কিনা, তাতেও সন্দেহ আছে। যদি ভালো ছেলে হয় ভালো পরিবার হয়, তাহলে কখনোই মেয়ের পরিবার থেকে যৌতুকের টাকা, মালামাল এবং খাবার এগুলোর জন্য শর্ত দেবে না।

ইসলামের বিধান হিসাব করলে কোন পুরুষ যদি কোন মেয়েকে স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করতে চাই, তাহলে নগদে তার কাবিনের টাকা পরিশোধ করতে হবে। এবং ঐ বিয়েকেই শরিয়ত সম্মত বিয়ে বলে।

আজকাল অহরহ বিয়ে হচ্ছে কাবিনের টাকা বাকিতে, আবার সেই বিয়ে শরিয়ত সম্মত বলে সমাজে চালিয়ে দিচ্ছে। স্ত্রীর হক বাকি রয়েগেছে, স্ত্রীর কাবিনের টাকা পরিশোধ না করে স্ত্রীর সাথে বাসর ঘরে যাওয়া কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

সর্বশেষ: বিয়েতে খাবার নিয়ে যখন মারা মারি, আহত, রক্তাক্ত এই সমস্ত ঘটনা গুলো ঘটে এবং এই কারণে বিয়ে ভেঙে একটি মেয়ের জীবন ধ্বংস হয়ে যায়, তাই এটার একটা সমাধান অত্যন্ত জরুরি।

দেশে এমন কিছু আইন প্রয়োজন যেটা ইসলাম সমর্থন করে এবং সমাজের জন্য উপকৃত হয়, তাহলে মেয়েরা কখনোই সমাজে কলঙ্কিত হবে না।

যদি কোন ছেলে বিবাহ করতে ইচ্ছুক হয় তাহলে, তার নিজ খরচে তার আত্মীয় স্বজনকে খাওয়াবে।

আর যদি কোন মেয়ে পক্ষ খুশি হয়ে খাবার খাওয়াতে চাই তাহলে, ছেলে পক্ষ দায়িত্ব নিয়ে ছেলের আত্মীয় স্বজনকে খাইয়ে দিবে। যেটাতে মেয়ের পরিবার দায়ী নয়।

এতে করে মাংস কম দেওয়া বেশি দেওয়া নিয়ে বিয়ে ভাঙ্গার সুযোগ টা আর থাকছে না। খাবারের যত দায়িত্ব তার দায়ভার ছেলে পক্ষকে নিতে হবে।

যৌতুক বিরোধী বিয়ে হোক

বিয়ে ভাঙ্গা বন্ধ হোক।

নারীর মর্যাদায় এগিয়ে আসি,

নগদ কাবিনে বন্ধন গড়ি।








একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ