About Me

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়টি?

সংগৃহীত: ছবি

বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কয়টি এবং দেশের কোথায়? 
শুক্রবার: ৭ জানুয়ারি ২০২২ ইং

বাংলাদেশের মধ্যে ছোট বড় অনেক বিমান বন্দর থাকলেও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসেবে যেগুলো সীকৃতি পেয়েছিল তার নাম এবং ঠিকানা তুলে ধরা হলো:

১/ ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ১৯৪১ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ সরকার তেজগাঁও থেকে কয়েক কিলোমিটার উত্তরে কুর্মিটোলায় উড়োজাহাজ নামার জন্য একটি রানওয়ে তৈরি করে। ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান গঠনের পর তেজগাঁও বিমানবন্দরটি পূর্ব পাকিস্তানের প্রথম বিমানবন্দর হয়ে ওঠে। ১৯৬৬ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের সরকার কুর্মিটোলার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করে এবং ফরাসি বিশেষজ্ঞদের মতে টার্মিনাল নির্মাণ এবং রানওয়ে নির্মাণের জন্য টেন্ডার চালু করা হয়। নির্মাণ সামগ্রী পরিবহন জন্য একটি রেল স্টেশন (বর্তমান এয়ারপোর্ট রেলওয়ে স্টেশন) নির্মিত হয়।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বিমানবন্দরটি অর্ধেক সম্পন্ন অবস্থায় ছিল। কিন্তু যুদ্ধের সময় বিমানবন্দরে গুরুতর ক্ষতি সাধিত হয়।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ সরকার পরিত্যক্ত কাজ পুনরায় চালু করে এবং এটিকে দেশের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে নির্মানের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। মূল রানওয়ে এবং কেন্দ্রীয় অংশটি খোলার মাধ্যমে ১৯৮০ সালে এয়ারপোর্টটি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিমানবন্দরটির শুভ উদ্বোধন করেন। রাজনৈতিক কারণে আরও তিন বছর লাগে এটি সম্পন্ন হতে। অবশেষে ১৯৮৩ সালে রাষ্ট্রপতি আবদুস সাত্তার জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে বিমানবন্দরের উদ্বোধন করেন।

সংগৃহীত ছবি: ঢাকা বিমানবন্দর

২০১০ সালে ক্ষমতাসীন সরকার বিমানবন্দরের নাম পরিবর্তন করে, জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হিসাবে নামকরণ করে। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

সারা বাংলাদেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের যাত্রী ব্যস্ততা প্রথম সারিতে রয়েছে, কারন বাংলাদেশের রাজধানী যেহেতু ঢাকায়, এটি বৃহত্তর বিমানবন্দর।

২/ চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ১৯৪০ এর দশকে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় এটা চট্টগ্রাম এয়ারফিল্ড নামে পরিচিত ছিল। পূর্বে বিমানবন্দরটি এম এ হান্নান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নামে নামকরণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে, ২ এপ্রিল ২০০৫ সালে বাংলাদেশ সরকার এটিকে ১৮ শতাব্দীর দরবেশ শাহ আমানত এর নামে নামকরণ করেন। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে এটিকে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইকাও) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্বীকৃতি দেয়। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

সংগৃহীত ছবি: চট্টগ্রাম বিমানবন্দর

যদিও সারা বাংলাদেশ সহ বিশ্বে চট্টগ্রামের অনেক সুনাম রয়েছে। কারন বাংলাদেশ সহ বিশ্বের কাছে বানিজ্যিক রাজধানী হিসেবে এই চট্টগ্রাম পরিচিত। এটি দ্বিতীয় বৃহত্তর বিমানবন্দর। বঙ্গোপসাগরের কিনারা ঘেঁষে গড়ে উটে এই বিমানবন্দর এবং তার সাথে সংযুক্ত হয় কর্ণফুলী নদীর মুখ। একপাশে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর এবং আরেক পাশে রয়েছে চট্টগ্রাম পতেঙ্গা বিচ এলাকা অর্থাৎ পর্যটকদের জন্য চট্টগ্রাম সমুদ্র সৈকত।

৩/ সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। যেটির নাম আগে ছিল শুধু সিলেট বিমান বন্দর। এটি ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের মহানায়ক জেনারেল ওসমানীর নামানুসারে নামকরণ করা হয়। ১৯'শতকের শেষের দিকে সিলেট মহানগরীর কেন্দ্রস্থল থেকে উত্তর-পুর্ব দিকে এই বিমানবন্দরটি একটি "বেসামরিক বিমানবন্দর" হিসাবে প্রতিষ্ঠা করা হয় তদানীন্তন ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায়। এটি তৃতীয় বৃহত্তর বিমানবন্দর। বিমানবন্দরটি সিলেট শহরের '০' পয়েন্টের ৮ কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে। সিলেট শাহজালাল দরগাহ থেকে অল্প দুরে এটি করা হয়েছে। শহরের কেন্দ্রবিন্দু '০' পয়েন্ট হতে ৮ কিলোমিটার এবং সিলেট রেলওয়ে স্টেশন ও কদমতলী বাস টার্মিনাল থেকে ১০ কিলোমিটার দুরত্বে ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অবস্থান। সিলেট এসে সেখান থেকে রিক্সা বা সিএনজি অটো রিক্সায় অতি সহজেই ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আসা যায়। তথ্যসূত্র: উইকিপিডিয়া

সংগৃহীত ছবি: সিলেট বিমানবন্দর

সব মিলিয়ে বাংলাদেশে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর রয়েছে, ৩টি। পর্যটক নগরী কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশে বর্তমান কক্সবাজার বিমানবন্দরটির আপডেট কাজ চলমান রয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে দেশে ৪ টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে যাবে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ