প্রবাসীদের বউয়ের ব্যাংক একাউন্টে টাকা রাখা কতটুকু নিরাপদ? |
প্রবাসীরা লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণ করার জন্য দেশ ছেড়ে বিদেশের মাটিতে পাড়ি জমায়। দিনের পর দিন ঘাম ঝরানো শ্রম দিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে থাকে। সেই মুদ্রা রেমিট্যান্স হিসেবে দেশের মধ্যে পাঠিয়ে থাকেন। তবে প্রশ্ন হচ্ছে, নিজের বিবাহিতা স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে সেই আয় করা সব টাকা পাঠালে কোন ঝুঁকি আছে কিনা?
উত্তর:
অবশ্যই ঝুঁকি আছে, সংক্ষেপে বিস্তারিত আলোচনা করতে গেলে, যা আমরা দেখেছি বা জেনেছি গণমাধ্যমের দ্বারা, সেগুলো পর্যালোচনা করলে বোঝা যায়, বিবাহিতা স্ত্রীর ব্যাংক একাউন্টে সম্পুর্ণ টাকা রাখা নিরাপদ নয়।
তার গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণগুলো হচ্ছে:
১/ স্বামী প্রবাসে থাকাকালীন, স্ত্রী টাকা নিয়ে অন্য পুরুষের সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া।
২/ স্বামীর ঐ টাকা থেকে স্বামীকে না জানিয়ে অন্যকে ধার দেওয়া।
৩/ স্ত্রীর নামে ব্যাংকে টাকা থাকার কারণে, স্ত্রী যখন তখন মার্কেট বা বাইরে স্বামীকে না জানিয়ে চলে যাওয়া এবং অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা, ইত্যাদি।
তো কিভাবে প্রবাসীর আয় করা টাকা নিরাপদে রাখা যায়?
একজন প্রবাসীর কোন আশংকা ছাড়াই নিরাপদে অবশ্যই টাকা রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, যেমনটি প্রথমে প্রবাসীকে তার পছন্দের সরকারি বা বেসরকারি যে কোন একটি ব্যাংকে নিজের নামে সেভিংস একাউন্ট খুলে নিতে হবে। অবশ্যই যে ব্যাংক গুলোর ভালো ডিমান্ড রয়েছে, সে ব্যাংক গুলোতে। একাউন্ট খোলা হয়ে গেলে, ১৫ থেকে ১ মাসের মধ্যে চেক বই হাতে পাওয়া যায়। অবশ্যই বিদেশে যাওয়ার আগে একাউন্ট করে নিলে ভালো হয়। যদি সেটি না হয়, বিদেশে থাকা অবস্থায়ও একাউন্ট খোলা যায়, বিভিন্ন এক্সচেঞ্জে বাংলাদেশী ব্যাংক গুলোর প্রতিনিধি থাকেন তাদের মাধ্যমে একাউন্ট খুলে নিতে পারে।
এবার একজন প্রবাসী যখন বেতন পাবেন, তখন বিদেশ থেকে তার একাউন্টে সরাসরি এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারেন। দেশের কাউকে দিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা করার প্রয়োজন পড়ে না। নিজের পরিশ্রমের টাকা নিজের কাছে নিরাপদে থাকতে আর কোন সংশয় থাকে না।
তাহলে কি বিবাহিত স্ত্রীরা কোন টাকা পাবে না?
উত্তর: অবশ্যই পাবে। একজন প্রবাসী তার স্ত্রীর খরচ সহ ঘরের মাসিক খরচা অনুসারে যতটুকু প্রয়োজন, ততটুকুই দিবেন।
কিভাবে দিবেন:
> স্ত্রীর বিকাশ একাউন্টে
> ব্যাংকে গোপন নাম্বারে
বিদেশ থেকে গোপন নাম্বারের পাশাপাশি বৈধভাবে বিকাশ, নগদ, রকেট সহ অনুমোদিত সব মোবাইল ব্যাংকিং-এ টাকা পাঠানো যায়।
পৃথিবীতে ভালো এবং মন্দ মানুষের বসবাস রয়েছে।
কিন্তু খারাপ মানুষ সহজেই চেনা যায় না, তার কাজে কর্মে তা প্রমাণ হয়ে যায়। তেমনি সব প্রবাসীর স্ত্রীরা তো অনিরাপদ নই, কিছু স্ত্রীর কারনে সব স্ত্রী থেকে প্রবাসীদের বিশ্বাস টা উঠে যায়। তাই উপরে উল্লেখিত কথাগুলো অনুযায়ী পদক্ষেপ নিলে, ভবিষ্যতে স্বামী-স্ত্রী দুজনের জন্যই মঙ্গল।
বিদেশে থাকা অবস্থায়, জরুরী প্রয়োজনে নিজের ব্যাংক একাউন্ট থেকে কিভাবে টাকা উঠাবেন?
নিজের কাছে চেক বই অবশ্যই সাথে থাকতে হবে।
চেক বইয়ের সাহায্যে প্রবাসীরা তার মনোনিত ব্যাক্তির নামে টাকাগুলো তুলতে পারে। যেমন একটি চেকে তারিখ এবং টাকার অংকটা উল্লেখ করলেন, এবং যিনি টাকা তুলবেন তার নাম চেকে লিখতে হবে, শেষে নিজেকে সাইন করে দিতে হবে, অবশ্যই একাউন্ট করার সময় যেভাবে সত্যায়িত করার জন্য সাইন করা হয়েছিল ঠিক সেই ভাবে। এরপর সেটি বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসে ঠিকানা অনুযায়ী পাঠাতে পারেন।
সেটি রিসিভ করে পরে ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করতে পারে। আরো কিছু অনলাইন সিস্টেম- এ ব্যাংক থেকে টাকা উত্তোলন করা যায়, যা পরবর্তী ব্লগে উল্লেখ করা হবে।
প্রবাসীদের শ্রমের ফসল যতই নিরাপদে থাকবে, ততই তাদের পরিবারে উন্নতি হবে, এবং প্রবাসীদের সাফল্যেই দেশও সমাজ এগিয়ে যাবে।

0 মন্তব্যসমূহ