About Me

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?

ছবি: সংগৃহীত নমুনা মাত্র 

মানুষ কেন আত্মহত্যা করে?

প্রকাশ: ৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার ২০২২ ইং 

একটি সন্তান যখন সৃষ্টি হয়, পরিবারে সবাই অনেক খুশি হয়। এবং অনেকে ভবিষ্যত নিয়ে আশা ভরসা করে থাকেন। সন্তান বড় হয়ে মানুষের মত মানুষ হবে। মা বাবা, ভাই বোন, সমাজ এবং দেশের জন্য অবদান রাখবে।

কিন্তু অবদান তো দুরের কথা, উল্টো আত্মহত্যা করে বসে থাকে। এর পিছনে কারণ কি? আত্মহত্যা বিশ্লেষণ করলে অনেক গুলো কারণ পাওয়া যায়। তার মধ্যে সচারাচর যেগুলো-

যেমন:

• প্রেমিক প্রেমিকার সম্পর্কে বাঁধা সৃষ্টি হলে, সেক্ষেত্রে প্রেমিক বা প্রেমিকা আত্মহত্যা করে বসে।

• মা-বাবারা, সন্তানদের শাসন করতে গেলে, সে ক্ষেত্রেও আত্মহত্যা করে বসে।

• ব্যাংক লোন এর বোঝা মাথায় নিতে না পেরে, আত্মহত্যা করে।

• স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যে প্রচন্ড ঝগড়া করে, আত্মহত্যা করে।

• শিক্ষার মধ্যে পরীক্ষায় পাশ করে নাই, এজন্যই আত্মহত্যা করে।

• ধর্ষনের শিকার হলে আত্মহত্য করে।

• বিভিন্ন ধরনের যৌতুক চাওয়ার কারণেও গৃহবধূ মানসিক চাপে আত্মহত্যা করে বসে।

আরো যেমন, বেকারত্ব, দরিদ্রতা, পারিবারিক শাষণ, ইত্যাদি ইত্যাদি রয়েছে।

তবে আত্মহত্যা আসলে কোন সমাধান নয়, কারন আত্মহত্যা যদি সমাধান হতো তাহলে বর্তমানে যে পরিমাণ আত্মহত্যা হচ্ছে, তার দিগুন হতো। আল্লাহ তায়ালা বলেন...আর ব্যয় কর আল্লাহর পথে, তবে নিজের জীবনকে ধ্বংসের সম্মুখীন করো না। আর মানুষের প্রতি অনুগ্রহ কর আল্লাহ অনুগ্রহকারীদেরকে ভালবাসেন, সূরাঃ আল-বাকারা আয়াত-১৯৫ 

অতএব আত্মহত্যা মহা পাপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন, এই কাজটি না করতে নিষেধ করেছেন এবং এটিকে আল্লাহ তায়ালা যায়েজ করেননি। আর পরকালে জাহান্নামী হিসেবে গণ্য করা হবে। দুনিয়া ও আখেরাত দুটোই হারালো।

আত্মহত্যাকারী মনে করছেন, দুনিয়ার মানসিক আযাব থেকে বাঁচতে আত্মহত্যা করে বেঁচে গেছেন বা শান্তি পাবেন। কিন্তু আখেরাতেও একই অবস্থা সেখানে আরো আযাব বেশি যেহেতু আত্মহত্যা গুনাহ, সুতরাং শাস্তিতো ভোগ করতে হবে। তাহলে বুঝা যাচ্ছে, দুনিয়ার আযাব থেকে মৃত্যুর পরবর্তী সময় আরো বেশি কঠিন ও আযাবে ভরা।

এই হিসেবে আত্মহত্যা করার প্রশ্নই উঠে না। কারন দুনিয়া ক্ষনিকের, অল্প সময় নিয়ে দুনিয়াতে জীবন যাপন। অথচ বাকি জীবন পরকালেই কাটাতে হবে। তাই কোন অবস্থাতেই আত্মহত্যা করা যাবে না, যতই কিছু হোক না কেনো।

তাই বলে কি পরকালের কথা ভেবে আত্মহত্যা থেমে যাবে? আসলে মোঠেই নয়, যদি আল্লাহর ভয় থাকতো আল্লাহর কথা মানতো তাহলে একটা মানুষও আত্মহত্যা করতো না। 

প্রতিটা মানুষের বিচার হবে, যতটুকু ভালো করেছে ততটুকু ফল পাবে আর যতটুকুই খারাপ করেছে ততটুকু প্রতিদান পাবে, এটা আল্লাহ তায়ালা নিজেই বিচার করবেন। 

আত্মহত্যা করার পেছনে মানুষ দায়ী। মানুষের কারনে মানুষ আত্মহত্যা করে। মানুষ মানুষকে যে পরিমাণ মানসিক চাপে রাখে, তা আসলে সে সময় নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। মানুষ যদি প্রতিটা বিষয়ে মানুষের প্রতি সহনশীল হতো, মানুষের সমস্যাটাকে পর্যালোচনা করতো, একটু সুযোগ দিতো, তাহলে আত্মহত্যা করার মত পরিস্থিতি তৈরি হতো না। সংক্ষেপে একটু উদাহরন দিতে গেলে দেখা যায়, মানুষ মানুষের সাথে যে আচরণ গুলো করে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি।

যেমন-

ব্যাংক ঋণ - কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব বা ব্যর্থ হলে, তার প্রতি অসদাচরণ এবং পরিশোধের সময় না দেয়া। মুহুর্তে আদায়ের জোর চেষ্টা সহ তার মান সম্মান হানি করা। সমাজে তার সম্মানে আঘাত আসার কারনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

যৌতুক- মেয়ে বিয়ে দেয়ার পর শশুর বাড়ি থেকে ধাপে ধাপে মেয়েকে যৌতুকের জন্য বাড়তি একটা চাপ প্রয়োগ করা। টাকা থেকে শুরু করে, ঈদের বস্ত্র, ঈদের গরু কুরবানী, সমাজের জন্য নাস্তা পানি, ইত্যাদি ইত্যাদি মেয়ের পরিবার থেকে দেয়ার জন্য মেয়ের উপর মানসিক ভাবে চাপ প্রয়োগ করে, যা একজন নতুন বিয়ে হওয়া মেয়ের পক্ষে সহ্য করা সম্ভব নয়, তাই আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

একাকিত্ব - নিজের সন্তানাদি থাকা সত্ত্বেও মা-বাবা ডিপ্রশনে ভোগে। বাবা এক জায়গায় মা আরেক জায়গায়। সন্তানরা আরেক জায়গায়। সন্তানরা যখন স্টাবলিষ্ট হয়ে যায়, বৃদ্ধ বয়সে মা বাবারা মূল্যহীন হয়ে যায়, তাদের জীবনটা অবহেলা আর অযত্নে কাটে, অনেকেই মেনে নিতে পারে, যারা পারে না তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

ধর্ষণ - একটি মেয়ে বা মহিলা ধর্ষণ হওয়ার পর যেটি ভাবে, সেটা হলো সমাজকে নিয়ে। সমাজের মানুষ কোন চোখে দেখছে? ভাল দিক নাকি খারাপ দিক?

যদিও সমাজ এমন ভাবে ধর্ষণ টাকে তুলে ধরে যা মেয়েটি আর বেঁচে থাকবে সেটি প্রায় অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। কারন ধর্ষকের চেয়ে ধর্ষিতার প্রচারণা টা সমাজে বেশি হয়। তাই সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়।

প্রেম পিরিতি - যুগ যুগ ধরে চলে আসছে, যা চলমান। যৌবনের তারনায় উভয়ের মধ্যে প্রেম ভালোবাসার বন্ধন তৈরি হয়, যা কেউ আটকে রাখতে পারে না। বয়সী বা কম বয়সীর মধ্যে কোন পার্থক্য নেই, আবেগের কাছে বয়স কোন ব্যাপারই না। কিন্তু ইসলাম তা যায়েজ করেননি। বিয়ের আগে প্রেম পিরিতি বা ভালবাসা বা শারীরিক মিলন তা ইসলামে নিষিদ্ধ। বিয়ের পর তা বাধা নেই। তবে কে কার কথা শুনে? যে যার মতো প্রেম ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়ছে। পরিবার বা সমাজ থেকে যদি বাঁধা দেয়া হয় সেক্ষেত্রে তারা আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়।

আরো নানা রকম বিষয় রয়েছে, তার কারনে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হচ্ছে।

সমাধান কি?

যে সমস্যার কারণে আত্মহত্যা করতে চাচ্ছে, সে সমস্যা সমাধান করার জন্য, পরিবারের সদস্যরা, আত্মীয় স্বজন, সমাজের সদস্যরা যদি তার পাশে দাঁড়ায় এবং থাকে যথেষ্ট সাপোর্ট আর মানসিক যন্ত্রণা থেকে স্বাধীনতা দেয়, তাহলে সে আত্মহত্যা করা থেকে ফিরে আসবে। বেঁচে যাবে একটি তাজা প্রাণ। আমরা দেখি মানুষ আত্মহত্যা করার পর তার জন্য সবাই আফসোস করে। কিন্তু আত্মহত্যা করার আগে তার খবর নেয়া, কি অবস্থায় আছে সেটা দেখা, কোন সমস্যায় আছে কিনা সেটা দেখা, এবং যদি সমস্যায় থাকে তাহলে তা কিভাবে সমাধান করা যায় বসে আলোচনা করা, থাকে অবশাদ থেকে সস্থিতে নিয়ে আসা, এবং তার ভিতর আত্মহত্যা করার কোন প্রবনতা আছে কিনা তা বের করা। মোট কথা আত্মহত্যা করার আগে তার পাশে দাঁড়াতে হবে, যখন সে সমস্যার মধ্যে থাকবে। না হলে পরে আফসোস করে লাভ কি?

মানুষ মানুষের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়ালে বেঁচে যাবে অসংখ্য তাজা প্রাণ। সাথে মানসিক চাপ প্রয়োগকারী ব্যক্তি বা সংস্থাকেও সহনশীল হতে হবে, এবং এমন আচরণ করবে না যাতে মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। মৃত্যুর মূল কারণ হলো মানসিক যন্ত্রণা, যা খুবই কঠিন এবং ভয়াবহ।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ