![]() |
| পিক সংগৃহীত |
কতগুলো কষ্ট আছে, যাহা বর্ণনা করা যায় না, সবার থেকে আড়াল করে মুখ বুজে থাকে। একটা মহিলার প্রসব বেদনা মনে হবে আসমান জমিন এক হয়ে যাচ্ছে।
তার পরও সহ্য করে যায়, একটি সুসন্তানের মুখ দেখার জন্য। উপর ওয়ালার ইচ্ছায় যেদিন সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়, সেদিন মায়ের শরীর থেকে রক্তের বন্যা বয়ে যায়। অনেক মা শিশু জম্ম দিতে গিয়ে, মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করেন। সন্তান বাঁচাতে মাকে কোরবানি হতে হয়। মা চাই তার সন্তান পৃথিবীর আলো দেখুক। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর মায়ের বুক আশ্রয়ের স্থল হয়ে যায়। শিশুকে যত নরম বিছানায় রাখে না কেন, মায়ের বুক ছাড়া ঐ শিশুর কোথাও ভাল লাগে না।
কিন্তু সেই শিশু যখন পৃথিবীকে জানলো, নিজের পায়ে দাঁড়াতে শিখলো, তখন মায়ের আশ্রয় হলো, এক অপরিচিত বৃদ্ধাশ্রমে।
শিশু জন্ম হওয়ার পর এমন কোন রাত নেই, চিল্লাচিল্লি, কান্না কাটি করেনা। যে রাত মা, না ঘুমিয়ে সন্তানকে দুধ খাইয়ে ঘুম পাড়াচ্ছে, নিজের শরীরে পায়খানা প্রস্রাব করে দিচ্ছে। কোন রোগ দেখা দিলে, রাত দিন চিন্তা না করে সাথে সাথে হসপিটাল ও ডাক্তারের কাছে না নিয়ে যাচ্ছে। কারন জন্ম দাতা জননী।
অনেক সন্তান আল্লাহর ইচ্ছায় মায়ের পেটে ভূমিষ্ঠ হবার আগেই মরে যায়, এবং মৃত হিসেবে ভূমিষ্ঠ হয়। কিন্তু মা সেটা সহ্য করতে পারে না। মা শব্দটি অত্যান্ত মিষ্টি যুক্ত। যার আছে, সে মায়ের স্বাদ টি নিতে পারে না, আর যার নেই তার কাছে অনেক অনেক স্বাদ।
অনেক মা আছে মা হতে পারছেন না, একটা সন্তান সন্তান করে বছরের পর বছর পার করছেন, কিন্তু তার নছীবে সন্তান নেই। অন্যের সন্তান নিয়ে, মা হবার স্বাদ পূরণ করছেন।
মা-বাবা যদি জানতো, তাদের সন্তানের কারনে বৃদ্ধ বয়সে আত্মীয় স্বজনহীন বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হবে, তাহলে কি সেই সন্তানদের মেরে ফেলতো? না। কারন, মায়ের কাছে ভালো, মন্দ খারাপ সব ছেলেই আদরের।
কিন্তু ছেলের কাছে মা আদরের হওয়াটা স্বাভাবিক নয়, অস্বাভাবিক বটেই। তাই পৃথিবীর বুকে তৈরি হলো বৃদ্ধাশ্রম নামক নিরব ঠিকানা। যে ঘর মা-বাবারা সুন্দর করে বানালো সাজিয়ে গুছিয়ে রাখলো, বৃদ্ধ বয়সে সেই ঘরে থাকাটা সৌভাগ্যের ব্যাপার। এমন সন্তান কি কখনো চিন্তা করে? যে তার বেলায় কখনো তার সন্তান এমনটি করবে না। বৃদ্ধ বয়সে মা-বাবা কিভাবে সন্তানের কাছে বিষের মত হয়ে যায়? চিন্তা থেকে যায়।
"পৃথিবী থেকে বৃদ্ধাশ্রম শব্দটি উঠে যাক
ঘরের মা-বাবা ঘরে থাক
মায়ের সুখে দুঃখে সন্তান পাশে থাক"

0 মন্তব্যসমূহ