স্বামীর জন্য স্ত্রীরা সাজগোজ করে না কেন, ভীষণ রহস্য বলে মনে হয়।
কিন্তু স্ত্রীরা কোথাও গেলে এত বেশি সাজগোজ, মহা সাজগোজ। পাশের ভাবিদের ডেকে এনে আরো বেশি সাজিয়ে নেয়।
কেন এমন টি হয়, কেন করে? তাহলে কি তারা বাইরের লোকের প্রতি আকৃষ্ট?
তাহলে কি স্বামীর প্রতি স্ত্রীরা খুশি নয়? স্বামীর প্রতি কি তাদের দূর্বলতা নেই?
সব মহিলা নয়, তবে অধিকাংশ মহিলা স্বামীর জন্য সাজগোজ করে না।
আরো পড়ুন...
ঘরে থেকেই আয়ের সুযোগ মেয়েদের জন্য
মোবাইল ফোন স্লো হওয়ার কারণ এবং সমাধান জানুন
কয়েকজন বিবাহিত পুরুষের প্রশ্নগুলো থেকে জরিপ করে দেখা যায়, যে স্বামী মেহনত করে টাকা উপার্জন করে, সেইখান থেকে বউয়ের জন্য সাজসজ্জা- মেকআপ সহ আকর্ষণীয় প্রসাধনী কিনতে স্ত্রীকে টাকা দেয়। এবং স্বামীর আশা আকাঙ্ক্ষা থাকে তার প্রিয় বউটি তার জন্যে সাজগোজ করবে। কিন্তু হয়ে যায় উল্টো। আশা হয়ে যায় মাটি। তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু কাউকে লজ্জায় বলতে পারেনা। তারাও অনেক চিন্তিত হয়ে পড়ে, নিজের স্ত্রী পরের জন্য সাজতে অনেক হ্যাপি। নিজের জন্য কেন নয়।
তাহলে কি স্বামীদের কোন সমস্যা আছে?
জরিপ অনুযায়ী স্বামীদের কোন দোষ-সমস্যা নেই।তাহলে সমস্যা কার?
মূলত মহিলারা এমন কিছু আশা করে, যেগুলো তাদেরকে একটু অন্যদের চেয়ে আলাদা যাতে মনে হয়। যেমন কেউ তার সুন্দর্য্যের প্রসংশা করুক, তার গহনার প্রসংশা করুক, তার পরানো কাপড়ের প্রসংশা করুক। এগুলোর প্রসংশা করলে ভিতরে ভিতরে তারা মহা খুশি, যা তারা মূখে প্রকাশ করে না।
ইসলাম কি বলে একটু দেখি...
ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো কাছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। সূরা আন নূর - ৩১
নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে নারী সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে
কোন নারী উত্তম? তিনি (সা.) উত্তরে বললেন, যে স্বামীকে আনন্দিত করে, যখন সে (স্বামী) তার দিকে তাকায়।’ (নাসাঈ হা/৩২৩১; মিশকাত হা/৩২২৭; ছহীহাহ হা/১৮৩৮)।
তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে। সূরা আল আহযাব - ৩৩
হে নবী পত্নীগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও; যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, তবে পরপুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না, ফলে সেই ব্যক্তি কুবাসনা করে, যার অন্তরে ব্যাধি রয়েছে তোমরা সঙ্গত কথাবার্তা বলবে। সূরা আহযাব - ৩২
হে নবী! আপনি আপনার পত্নীগণকে ও কন্যাগণকে এবং মুমিনদের স্ত্রীগণকে বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দংশ নিজেদের উপর টেনে নেয়। এতে তাদেরকে চেনা সহজ হবে। ফলে তাদেরকে উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল পরম দয়ালু। সূরা আহযাব- ৫৯
এখানে প্রতীয়মান হয়েছে যে, আল্লাহ তায়ালা সমস্ত মহিলাদের ব্যপারে অবগত আছেন, তাদের মনে কি আছে, তারা একটু পর কি করবেন, এবং তারা কি কামনা করে।
না হলে এই কথা গুলো পবিত্র কোরআনের আয়াত দ্বারা আমাদের কাছে আসতোনা। আল্লাহ তায়ালা অন্য আয়াতে আরো বলেন, যারা জ্ঞানী এবং বুদ্ধিমান তারাই পবিত্র কোরআন কে আঁকড়ে ধরে আছে। আল্লাহ তায়ালা এই আয়াত গুলো দ্বারা সতর্ক করে দিয়েছেন, মুমীন-মুমীনাদের জন্য।
এই আয়াত গুলো থেকে আরো প্রতীয়মান হয় যে, মহিলা/ স্ত্রী একমাত্র স্বামীকে প্রাধান্য দিবেন এবং যা তার সাজ সজ্জা সব কিছু স্বামীর জন্য। এমন সাজগোজ করবে যাতে স্বামী মুগ্ধ হয়ে স্ত্রীর প্রসংশা করে।
কিন্তু দুঃখের বিষয় হল আজকের সমাজে যেটা প্রতীয়মান হয় সেটা হচ্ছে, স্ত্রীরা স্বামীর সামনে এমন ভাবে উপস্থাপন হয়/ হাজির হয়, মনে হয় একটা কাজের ভূয়া। স্বামীর জন্য আলমারিতে রাখা নতুন নতুন শাড়ি থ্রিপিস গুলো পড়ে না। যা মেকাপ প্রসাধনী আছে সেগুলো স্বামীর জন্য ব্যবহার করে না। বিয়ের সময় স্ত্রীকে যেভাবে আকর্ষণীয় রুপে দেখেছিল, সেটা বিলুপ্তি হয়ে গেছে।
নতুন করে শুরু হতে থাকে বাইরের লোকদের কিভাবে আকৃষ্ট করা যায়। তার প্রমাণ হচ্ছে মহিলারা সাজসজ্জা এবং সুগন্ধি ও প্রসাধনী ব্যবহার করে। পায়ে নুপুর পড়ে। যার আওয়াজে রাস্তার পাশে থাকা সব পরপুরুষের কানে মহিলার সুন্দর্য্য প্রকাশ পায়। তার চলন বলন প্রকাশ পায়।
স্বামীকে প্রায়ই বলে থাকেন, আমার জন্য প্রসাধনী নিয়ে এসো, শেষ হয়ে গেছে। আমার জন্য মেকাপ নিয়ে এসো শেষ হয়ে গেছে তাই।
স্বামী ক্রয় করে দিতেই থাকেন, কিন্তু এগুলো স্বামীর জন্য নয়। এগুলোর স্বাদ নিতে পারে তারা যারা এই স্ত্রীর জন্য হারাম ব্যাক্তিরা।
তাহলে কি সেই স্ত্রীগুলো আল্লাহর অবাধ্য এবং গুনাহের পথে লিপ্ত?
উত্তর: অবশ্যই
তাহলে তারা কিভাবে গুনাহ মুক্ত থাকবেন, এবং আল্লাহর রাস্তায় ফিরে আসবেন?
উত্তর: প্রথমত ঐ মহিলাদের নিজেকে প্রশ্ন করতে হবে, সে মুসলিম মুমীন নারী কিনা। যদি সে আমল করে সে মুসলিম, তাহলে তার জন্য পথ প্রদর্শক হচ্ছে পবিত্র কুরআন শরীফ, বোখারি শরীফ, মুসলিম শরীফ সহ আরো অনেক কিতাব সমুহ।
মহিলাদের জন্য আল্লাহ তায়ালা কোরআন শরীফের আয়াত দ্বারা স্পষ্ট করেছেন যে, কিভাবে জীবন যাপন করবে, তার মধ্যে নিজের স্বামীকে খুশি রাখবে এবং যে কাজ গুলো করলে পরিবারে শান্তি ও বরকত নাজিল হবে।
তাই ভালো করে উপরে উল্লেখিত সূরা গুলো সহ কোরআনের আয়াত গুলো বুঝার জন্য পড়লে, নিশ্চিত যে, কখনো একটি মহিলা এবং বিবাহিত স্ত্রী পর পুরুষকে কখনো আকৃষ্ট করা বে না।
সকল বিবাহিত স্ত্রী স্বামীর প্রতি তাদের ভালোবাসা এবং সুন্দর্য্য প্রকাশ করুক, সারাদিনের কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি থেকে ঘরে এসে একটু আনন্দ উপভোগ করুক, এই প্রত্যাশা।

0 মন্তব্যসমূহ