বিদেশে আসতে অনেকেই আগ্রহী যারা কাজের উদ্দেশ্যে আসতে চাই। তবে সচারচর অনেক মানুষ জানেনা একজন প্রবাসীর,বিশেষ করে চাকুরীজীবির মাসে নূন্যতম কত খরচ হয়।
আজকে তুলে ধরবো সেসব বিষয়ে, যারা বিষয় টা জানার জন্য আগ্ৰহী হয়ে আছে।
বিদেশে একজন মানুষ মাসিক বেতনে চাকরি করতে গেলে, দুইটি অপশন পাওয়া যায়। একটি হচ্ছে, মালিক থেকে খরছ বহন, আরেকটি হচ্ছে নিজ থেকে বহন।
প্রথমে আলোচনা করা হবে নিজ থেকে খরছ নিয়ে
যেমন-
১/ মাসিক হিসেবে বাসা ভাড়া বা রুম খরচ - একটি রুমে কয়েকজন মানুষ থাকে, তাদের সাথে শরীক হয়ে থাকলে, কমপক্ষে ১০ থেকে ১৫ ওমানি রিয়াল অথবা ১০০ থেকে দুবাইয়ের ১৫০ দিরহাম।
২/ মাসিক হিসেবে দুই বেলা খাবার ভাবত খরচ - দুপুর এবং রাতের খাবার এর জন্য নূন্যতম খরছ আসবে, ১৫ থেকে ১৭ ওমানি রিয়াল এবং দুবাইয়ের ১৫০ থেকে ১৭০ দিরহাম। যদি একজন প্রবাসী নিজে বা শরীক হয়ে রান্না করে খায়। আর যদি হোটেল থেকে দুই বেলা খাবার খায়, তাহলে কমপক্ষে ২৮ থেকে ৩০ রিয়াল ওমানি খরছ হবে। দুবাইয়ের প্রায় ২৮০ থেকে ৩০০ দিরহাম।
৩/ সারাদিনের চা নাস্তা ভাবত খরচ - সকালের জন্য ৩০০ baisa ওমানি এবং দুবাইয়ের জন্য ৩ দিরহাম।
সন্ধ্যা নাস্তার জন্য, ওমানি ৩০০ baisa দুবাইয়ের জন্য ৩০০ দিরহাম। সারা দিনে দুইটি চা ভাবত ২০০ baisa দুবাইয়ের ২দিরহাম।
৪/ মোবাইল ইন্টারনেট এবং অন্যান্য খরচ - মোবাইল বিল সব মিলিয়ে সর্বনিম্ন ওমানি ১০ রিয়াল এবং দুবাইয়ের ১০০ দিরহাম। আনুষাঙ্গিক আরো, ৫ রিয়াল দুবাইয়ের ৫০ দিরহাম।
এখন এগুলো একত্রে করলে যা দাঁড়ায়= ওমানি ৪১ রিয়াল থেকে ৪৮ রিয়াল এবং দুবাইয়ের ৪১০ থেকে ৪৮০ দিরহাম, মাসে খরচ আসে।
যদি মালিক পক্ষ নিজ থেকে এগুলো বহন করে তাহলে তার উপর এগুলো চলে গেল। মোট কথা একজন মানুষের মাসে, ৪০ থেকে ৫০ ওমানি বা দুবাইয়ের ৪০০ থেকে ৫০০ দিরহাম খরচ আসে।
এখন দেশ থেকে কোন ব্যক্তি কাজের উদ্দেশ্যে বিদেশে আসলে, থাকে ভালো করে চিন্তা করতে হবে, মাসিক এই খরছা গুলো কে বহন করবে? কি মালিক পক্ষ, নাকি কর্মচারী?
অনেক ক্ষেত্রে এই রকমই হয়, মালিক পক্ষ থেকেই ফ্রী রুম দিয়ে থাকে, কর্মচারীর জন্য। বাকি খরছা নিজেকে বহণ করতে হয়। আবার কিছু খাবারের প্রতিষ্ঠানে, খানা এবং থাকা মালিক পক্ষ দিয়ে থাকে।
পাসপোর্টে সংক্ষিপ্ত নাম থাকলে কি ভিসা পাওয়া যায় না?
যাইহোক, মূল কথা হচ্ছে মাসে যদি এই খরছা ভাবত রিয়াল বা দিরহাম খরচ আসে, তাহলে তার মাসিক বেতন কত হওয়া উচিত?
এজন্যই একজন মানুষকে বিদেশে আসার আগে ভালো করে এই বিষয়টি আমলে নিতে হবে, বিশেষ করে, যারা কোম্পানি, দোকান, বা যেকোন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে আগ্রহী।
কেন না দেশে থাকা অবস্থায় যদি আপনি বিষয়টি, ক্যালকুলেশন না করেন, বিদেশে আসার পর আর কোন হিসাব করে লাভ নেই। আপনাকে যেকোন প্রতিষ্ঠান অফার করবে, যেমন আপনার মাসিক বেতন, (এত) সেখান থেকে যদি আপনি উল্লেখিত খরছ গুলো বাদ দেন তাহলে আপনার আর কত রইল? এবং সেই টাকায় আপনার পোষাচ্ছে কি না সেটা আপনার আইডিয়া হয়ে যাবে।
আশাকরি যারা এই বিষয়টি জানতে আগ্রহী ছিলেন এই লেখা গুলো তাদের জন্য সহায়ক হবে। অনেক প্রবাসীদের সাথে আলোচনা করে এই তথ্যগুলো পাওয়া যায়।
পরবর্তী লেখায় উঠে আসবে দেশ ছেড়ে বিদেশে কাজ করলে, বেতন কত হওয়া উচিত?
0 মন্তব্যসমূহ