সুখবর! এবার ভিজিট ভিসা নিয়ে যেতে পারবে আরব আমিরাতে রইলো না কোন জটিলতা (প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী)
বৃহস্পতিবার: ২১ অক্টোবর ২০২১ ইং
বৃহস্পতিবার ২১ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে আন্ত: মন্ত্রণালয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় যোগ দেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা বা দপ্তরের উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ। যেখানে প্রবাসী বা অভিবাসীদের জন্য ভিসা সংক্রান্ত বিষয় সহ যারা নতুন করে আমিরাতে ভিজিট ভিসা নিয়ে যেতে চাই সবার জন্য গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। যদিও এই সভাটি পূর্বে নির্ধারণ করা ছিল।
আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়গুলি উঠে আসে তার মধ্যে ভিজিট ভিসা অন্যতম। কারন বাংলাদেশ থেকে বর্তমানে আরব আমিরাতে ভিজিট ভিসায় যেতে অনেকে ভিসা নিয়ে নিয়েছেন, অনেকেই ভিসা পাবার অপেক্ষায় আছেন। কিন্তু ঢাকা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জন্য এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, প্রকৃত পক্ষে যারা ভিজিট ভিসাধারী নই বা যারা কাজের উদ্দেশ্যে যেতে চাই তাদের ইমিগ্ৰেশন হবে না। এই আদেশের ফলে অনেকেই দূশচিন্তাই পড়ে যায়, বিশেষ করে যারা, নতুন করে আমিরাতে যেতে আগ্রহী।
অনেকেই (বিএমইটি) ক্লিয়ারেন্স পাওয়ার পরও যেতে পারছেন না বলে উল্লেখ করেন, মাননীয় মন্ত্রী ইমরান আহমদ (এমপি)। এবং যাদের বিএমইটি ক্লিয়ারেন্স নেই, তারাও যেতে পারছেন না, তাদের এয়াপোর্টে আটকে দেয়া হচ্ছে জানান গনমাধ্যমকে। তবে মন্ত্রী বলেছিলেন এই সমস্যা গুলো নিয়ে সভায় আলোচনা হবে।
শেষ পর্যন্ত সভায় এটির সমস্যা নিরসন হয়েছে জানান মন্ত্রী। তিনি জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয় বিএমইটি কার্ড পাওয়া ভিসাধারীদের গ্ৰহণ করবে, সেটি নিশ্চিত করেছেন।
যদি কেউ ভিজিট ভিসা নিয়ে কাজের উদ্দেশ্যে আমিরাতে যেতে চাই, যেতে পারবে তাতে আর বাধা নেই। তবে কিছু শর্ত রয়েছে, সেগুলো পালন করেই যেতে হবে।
যেমন-
#আরব আমিরাত থেকে কোম্পানি বা কোন প্রতিষ্ঠান হতে কর্মীর জন্য চাহিদা পত্র বা ডিমান্ড লেটার দিতে হবে
#চাহিদা পত্র বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে সত্যায়িত করে নিতে হবে, সেটি বাংলাদেশে পাঠাতে হবে
#চাহিদা পত্রের সাথে ভিজিট ভিসা, পাসপোর্ট সহ সমস্ত ডকুমেন্ট (বিএমইটি অফিসে) জমা দিতে হবে
#কতৃপক্ষ যাচাই বাছাই এর পর ছাড় পত্র দিলে তখন চলে যাওয়া যাবে
কোথায় পাবেন বিএমইটি স্মার্ট কার্ড বা ইমিগ্ৰেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড?
বাংলাদেশ সরকার অনুমোদিত বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সি বা যাদের (আর এল) নাম্বার আছে, তাদের মাধ্যমে, চাহিদা পত্রটি বাংলাদেশ দুতাবাসের শ্রম উইং আমিরাত থেকে, সত্যায়িত করে আনার পর, পাসপোর্ট, ভিসা সহ সমস্ত ডকুমেন্ট প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের (বিএমইটি) অফিসে জমা দিলে, বিএমইটি কতৃপক্ষ যাচাই বাছাই করার পরে একটি ছাড়পত্র দেবে, যাকে বলা হয়, ইমিগ্ৰেশন ক্লিয়ারেন্স কার্ড অথবা বিএমইটি স্মার্ট কার্ড। এই কার্ডটি যখন পেয়ে যাবেন, তখন আর ইমিগ্ৰেশনে কোন বাঁধা নেই, সংযুক্ত আরব আমিরাতে চলে যেতে পারবে ভিজিট ভিসাধারীরা।
বিরক্তিকর বিজ্ঞাপন ছাড়া ইমু ব্যবহার করুন
এখানে সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যদি কেউ (বিএমইটি) কার্ড ছাড়া যেতে চাই, তারা যেতে পারবে না।
প্রবাস তথ্যকেন্দ্রের বরাত অনুযায়ী, ২০১২ সাল থেকে বাংলাদেশীদের জন্য কর্মী ভিসা বন্ধ করে দেয় আমিরাত সরকার। বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডের জন্য, এই সিদ্ধান্ত নিতে তারা বাধ্য হয়। মাঝখানে যখন ভিজিট ভিসা চালু করে, তখন বাংলাদেশ থেকে কাজের উদ্দেশ্যে ভিজিট ভিসা নিয়ে অনেকেই ভিসা রূপান্তর করে নেন।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় বর্তমানে অনেক তৎপর। মানব পাচার, অপরাধ মূলক কর্মকান্ড এবং বিদেশে গিয়ে অবৈধ হওয়া ঠেকাতে, এমনটি পদক্ষেপ নিয়েছেন, জানান, গণমাধ্যমের কর্মীরা।
অবৈধ ভাবে দুবাই রোড ব্যবহার করে, অনেকেই ইউরোপ, আফ্রিকা যাওয়ার পথ অবলম্বন করে। মানব পাচার চক্রের দ্বারা এই কাজ টি হয়ে থাকে। আবার অনেকেই কাজের উদ্দেশ্যে ভিজিট ভিসা নিয়ে, বিএমইটি ছাড় পত্র নিয়ে আমিরাতে গেলেও, সেখানে দেখা যায়, সে কোম্পানি গুলোর কোন অস্তিত্ব নেই, শুধু নাম মাত্র কোম্পানি হিসেবে আছেন।
এই রকম ভাবে যদি কোন কর্মী সেখানে গিয়ে বিপদে পড়ে, তাহলে পরিবার এবং দেশ উভয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তাই এগুলো নিয়ন্ত্রণে আনতে বর্তমানে ভিজিট ভিসায় এই নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়।
উপরে উল্লেখিত নিয়মগুলো মেনে যদি, (বিএমইটি) স্মার্ট কার্ড নিয়ে যেতে চাই, সেক্ষেত্রে বাঁধা নেই, ভিজিট ভিসায় যেতে পারবে বলে জানান।
0 মন্তব্যসমূহ