| সংগৃহীত ছবি |
প্রবাসীদের পেট মোটা কেন হয়?
শনিবার: ২৩ অক্টোবর ২০২১ ইং
একজন মানুষ যখন প্রবাসী হয়ে বিদেশে আসে, সে সময় তার পেট থাকে লেবেল। অর্থাৎ শরীরের সাথে মানান সই। কিন্তু আসার ৫/৬ মাস পর থেকে তার পেটের পরিবর্তন আসতে শুরু হয়।
কারন কি?
কারন বলতে গেলে কয়েকটি থাকে, তারমধ্যে যেগুলো অন্যতম সেগুলো তুলে ধরা হলো..
কারন নং ১
কারন নং ২
কারন নং ১ থেকে বিস্তারিত:
চাকরি কিংবা ব্যবসার ক্ষেত্রে যখন কোন প্রবাসী, সারাদিন বসে কাজ করে তখন, তার পেটের পরিবর্তন আসতে শুরু করে, এবং দিন দিন তা বাড়তে থাকে, একসময় সেটা ফুটবল হয়ে যায়। অনেকেই হাস্য করে বলে সেটা দিয়ে ফুটবল খেললে কেমন হয়?
কারন নং ২ থেকে বিস্তারিত:
দিনে কিংবা রাতে, খাবার খাওয়ার পর, সাথে সাথেই শুয়ে যাওয়া, একটু হাটা চলা না করা, এবং অনিয়মিত ঘুম যাওয়া, যেগুলোর কারণে পেটে মেদ জমে, পেট বড় মোটা হয়ে যায়। অনেকেই দেখে তাদের হাসে। কিন্তু হেসে কোন লাভ নেই। আরো বিভিন্ন কারন থাকতে পারে।
মূলত একজন প্রবাসীর জীবন টা সাধারণ নন প্রবাসী জীবন থেকে আলাদা। অন্য আট-দশজন মানুষের মত নয়। কারন প্রবাস জীবনটার নাম হচ্ছে (ব্যস্ত জীবন)। ব্যস্ততায় প্রবাসীদের জীবনকে রোগ ব্যাধির দিকে ঠেলে দেয়।
সকাল ৮ টা থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত চাকরির মধ্যে এই সময় টা পার করতে হয়। মাঝখানে দুপুর ১টা থেকে ২ ঘন্টা পর্যন্ত খাওয়া দাওয়ার এবং বিশ্রামের জন্য সময় পাওয়া যায়। রাতে যখন ১২ টায় ডিউটি শেষ হয়, এরপর রুমে এসে আবার কাজ শুরু হয়। সেটি হচ্ছে বেছে থাকার কাজ, যেমন রান্না বান্না, এই রান্না শেষ করে ফ্রেশ হয়ে খাওয়া শেষ করতে বেজে যায় রাত ২ টা। হালকা একটু মোবাইলে বিনোদন বা পরিবারের কোন মেসেজ আছে কিনা, এগুলো দেখতেই বেজে যায় রাত ৩ টা। এর পর ঘুম। আবার সকাল হতেই শুরু একিই নিয়মেই এভাবেই দিন মাস বছর পেরিয়ে যায়। অনেকেই শুক্রবার ছুটি পেয়ে থাকে অনেকেই সেই দিনও কাজ করে যায়।
এভাবে জীবন টা চালিয়ে নিতে গিয়ে, প্রবাসীদের নিজের শরীরের যত্ন নিতে সময় টুকু আর হয় না।
অনিয়মিত খাওয়া, ঘুম পারিবারিক টেনশন সব কিছু মিলিয়ে এক অবিস্মরণীয় জীবন। যা প্রকৃত পক্ষে কেউ আশা করেনা।
প্রবাসীদের কাছে যদি সময়ের মধ্যে কিছু সময় পাওয়া যেত তাহলে, ব্যয়াম অথবা কোন জিম সেন্টারে গিয়ে সেখানে পেটের চর্বি কমানোর ব্যাবস্থা হতো। একটা সুস্থ শরীর নিয়ে কাজ করতে পারতো।
কিন্তু পেটের মধ্যে যে চর্বি বা মেদ জমিয়েছে, এটার কারনে রক্ত চলাচলে ক্ষতি হতে পারে, চলাফেরায় অসস্থি, খাওয়া দাওয়ায় হজম শক্তি না হওয়া, আরো অন্যান্য সমস্যা বা বড় রোগ দেখা দিতে পারে।
সব কিছুর জন্য দায়ী একটা নির্দিষ্ট সময়, এই সময়টি পাওয়া গেলে, পরিবর্তন করা যাবে, অতিরিক্ত চর্বি যুক্ত পেট টাকে। কিন্তু কয়েকজন ছাড়া সবার পক্ষে সম্ভব নয়।
আবার যারা কনস্ট্রাকশন লাইনে কাজ করে তাদেরও সময় নেই, ভোর ৫ টায় ৬ টায় বের হয়ে যায় কাজের উদ্দেশ্যে, দুপুর ঘন্টা খানেক সময় নিয়ে খাওয়া শেষ করে, একটানা কাজ করে সন্ধ্যা ৬ টা বা ৫ টায় কাজ শেষ হয়। এর পর রান্না-বান্না, খাওয়া দাওয়া শেষে ঘুমিয়ে পড়া। শরীরের কি অবস্থা সেটা দেখার সময় হাতে নেই, এর নাম প্রবাস জীবন।
তার পরও নিজের প্রতি দৃষ্টি রেখে নিজেকে সুস্থ থাকতে হবে, পরিবারের জন্য। এভাবেই পেটে মেদ বাড়িয়ে নিজেকে অসুস্থ অবস্থায় রাখা ঠিক নয়। যা যেকোন মুহুর্তে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।
পেট বড় বা মোটা হওয়ার পেছনে উপরে উল্লেখিত কারন গুলো সহ আরো অনন্যা থাকতে পারে।
সব শেষ নিজে বাঁচলে পরিবার ও দেশ বাঁচবে, সুস্থ থাকতে পরিকল্পনা গ্ৰহণ করা খুবই জরুরি। একটা নির্দিষ্ট সময় করে, বডি ফিটনেস সেন্টারে ব্যয়াম করলে, এই চর্বি যুক্ত পেট আগের স্বাভাবিক সুস্থ অবস্থায় ফিরে আসবে। প্রবাসীদের জন্য সচেতন মুলক এই লেখা গুলো নিশ্চয়ই সুফল বয়ে আনবে।
0 মন্তব্যসমূহ