![]() |
| পরকিয়ায় ধংস সন্তানের জীবন |
একটি শিশুর পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয় হলো তার মায়ের কোল। শৈশবে মায়ের আদর, মমতা এবং ভালোবাসা পেয়েই একটি সন্তান শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে ওঠে। কিন্তু বর্তমানে সামাজিক অবক্ষয় ও পরকীয়া সম্পর্কের ভয়াবহ বিস্তারের কারণে অনেক পরিবার ধ্বংসের মুখে পড়ছে। যখন কোনো মা পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে বা অন্য কোনো পুরুষের টানে পরিবার ও ঘর ছেড়ে চলে যায়, তখন এর সবচেয়ে বড় মাশুল গুনতে হয় তার নিষ্পাপ ও অবুঝ শিশুসন্তানটিকে। মা ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার পর সেই শিশুর জীবনে যে গভীর সংকট ও অপূরণীয় ক্ষতি নেমে আসে, তা কেবল ওই শিশুই বুঝতে পারে।
১. মাতৃদুগ্ধ ও শারীরিক পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হওয়া
একটি নবজাতক বা ছোট শিশুর প্রধান খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মূল উৎস হলো মায়ের দুধ। মা পরকীয়ার টানে হুট করে চলে গেলে শিশুটি রাতারাতি মায়ের দুধ থেকে বঞ্চিত হয়। বাজারে পাওয়া প্রসেসড মিল্ক বা ফর্মুলা মিল্ক কখনো মাতৃদুগ্ধের শূন্যতা পূরণ করতে পারে না। ফলে সঠিক পুষ্টির অভাবে শিশুটি অপুষ্টি, ঘন ঘন অসুস্থতা এবং শারীরিক দুর্বলতায় ভুগতে থাকে।
২. পরম মমতা ও যত্নের অভাব
মায়ের ছায়া ছাড়া একটি ছোট শিশু কোনোভাবেই সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে না। বাবা সন্তানকে ভালোবাসলেও তাকে সবসময় কাজ বা উপার্জনের তাগিদে ঘরের বাইরে থাকতে হয়। বাবার পক্ষে একাধারে সংসারের দায়িত্ব পালন করা এবং ২৪ ঘণ্টা ছোট শিশুর দেখাশোনা করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে। ফলে সময়মতো খাবার খাওয়া, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা বা অসুস্থতায় সেবা পাওয়ার মতো মৌলিক সুযোগ-সুবিধা থেকেও শিশুটি বঞ্চিত হয়।
৩. গভীর মনস্তাত্ত্বিক আঘাত ও নিরাপত্তার অভাব
মায়ের অনুপস্থিতি শিশুর মানসিক বিকাশকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রাতে ঘুমানোর সময় মায়ের স্পর্শ না পাওয়া, একটু কেঁদে উঠলে কোলে নেওয়ার মানুষের অভাব শিশুর মনে গভীর ভীতি ও নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়। শিশু যখন দেখে অন্য বন্ধুদের মা তাদের আদর করছে, কিন্তু তার মা নেই—তখন তার ভেতরে এক ধরনের দীর্ঘস্থায়ী বিষাদ ও হীনম্মন্যতা তৈরি হয়।
৪. ভবিষ্যৎ জীবন ও সামাজিক সংকট
মায়ের ঘর ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনা সমাজে এবং আত্মীয়স্বজনের কাছে জানাজানি হলে শিশুটিকে বড় হয়ে নানা ধরনের মানসিক নিপীড়ন ও সামাজিক ট্রলের মুখোমুখি হতে হয়। বড় হয়ে ওঠার পর সে বিশ্বাসভঙ্গের বেদনায় ভোগে, যার কারণে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে গিয়ে সে নিজেও কারো ওপর সহজে আস্থা রাখতে পারে না বা স্বাভাবিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে ভয় পায়।
অবক্ষয় থেকে ফেরার সময় এখনই
পরকীয়ার কারণে যখন একটি মা তার অবুঝ সন্তানকে ফেলে চলে যায়, তখন সে মূলত নিজের ক্ষণিক আনন্দের জন্য একটি জীবন্ত মানুষের ভবিষ্যৎ চিরতরে ধ্বংস করে দেয়। যে শিশুটির কোনো অপরাধ ছিল না, তাকে সারা জীবন মায়ের ভালোবাসাহীন এক নির্মম বাস্তবতায় কাটাতে হয়। একটি শিশুর প্রতি মায়ের এই দায়িত্বহীনতা কেবল একটি পরিবারের ধ্বংস নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। সাময়িক আভিজাত্য বা মোহের চেয়ে নিজের সন্তানের জীবন ও তার সোনালী ভবিষ্যৎ বহু গুণে মূল্যবান। আমাদের সমাজ ও প্রতিটি পরিবারকে পরকীয়ার এই বিষাক্ত থাবা থেকে বাঁচাতে হবে, যেন আর কোনো নিষ্পাপ শিশুকে মায়ের বুকের দুধ এবং পরম মমতা থেকে বঞ্চিত হয়ে অকালে ধুঁকে ধুঁকে বাঁচতে না হয়।
আজকাল পত্রিকার পাতা খুললেই পরকীয়া আর পরকীয়া, ঘুরে ফিরেই সন্তান ও স্বামীর জীবন বিপন্ন এমন ঘটনার অহরহ বর্ণনা। বাংলাদেশের আইনে যদি দৃশ্যমান পরকীয়ার বিচার ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে পরকীয়াকারীরা কখনো ভয় করবে না এবং এটির লাগাম টেনে ধরাও সম্ভব নয়; মাঝখানে শিশুদের জীবন বিপন্ন হয়ে পড়বে, যার সামাজিক মর্যাদার প্রভাব সারা জীবন বয়ে বেড়াতে হবে।
বাচ্চাদের সুন্দর জীবন এবং নিরাপদে কিভাবে বেড়ে উঠবে সে বিষয়ে আপনি চট্টলা সময় টিভিতে আপনার মতামত জানাতে পারেন।

0 মন্তব্যসমূহ