About Me

কেন ঘানিম-মুহাম্মদ আল-মুফতাহ'কে দিয়ে কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধন করালেন কেনই বা তিনি বিখ্যাত?

ছবি: মরগান ফ্রিম্যান এর সাথে ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ

কেন ঘানিম-মুহাম্মদ আল-মুফতাহ'কে দিয়ে কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধন করালেন কেনই বা তিনি বিখ্যাত?

ঘানিম-মুহাম্মদ আল-মুফতাহ্

কাতারের সবচেয়ে প্রতিষ্ঠিত এবং বিখ্যাত একজন ব্যক্তি। কারণ এনার হাত ধরেই বেজে উঠলো ফিফা বিশ্বকাপের দামামা। ২০২২ সালের বিশ্বের সর্বশ্রেষ্ঠ ফুটবলের আসরের উদ্বোধন করলেন ঘানিম-মুহাম্মদ আল-মুফতাহ্। আল বাইয়াত ষ্টেডিয়ামের এই অনুষ্ঠান উপভোগ করলো গোটা বিশ্বের ফুটবল প্রেমী মানুষ। ঘানিম এমন একটি বক্তব্য রেখেছেন যার কারণে আজ পুরো বিশ্ববাসী বিশেষ করে যারা অমুসলিম তারা একটি সুন্দর বার্তা পেয়েছে, এবং ঘানিমের সেই বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছেন আমেরিকার বিখ্যাত অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যান, কি এমন বক্তব্য ছিল যেটি শুনে বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল তা নিচে তুলে ধরেছেন চট্টলা সময় টিভি।

এখানে ক্লিক করে জানুন..



কি কারণে তার আজ এতই নাম? ঘানিম-মুহাম্মদ আল-মুফতাহ্ এর শরীরের নিচের অংশ নেই জন্মের আগেই দুটো পা হারিয়ে ফেলেন। কোডাল রিগ্রেশন সিনড্রোম রোগে আক্রান্ত ঘানিমের শরীরের নিম্নাংশ না থাকা সত্বেও তিনি গোটা কাতার তথা আরব দুনিয়ার একজন রোল মডেল। আরবের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে রয়েছে তাঁর ভক্ত সমর্থকবৃন্দ।

তিনি একজন বিশ্ববিখ্যাত মোটিভেশনাল স্পীকার। তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে উজ্জীবিত বর্ণময় হয়ে ওঠে হাজার বর্ণহীন জীবন।

ঘানিম যখন মাতৃগর্ভে রয়েছেন, তখনই আলট্রা-সাউন্ড মেশিনে ধরা পড়ে তাঁর শরীরের অবিকশিত অংশ। তাই ডাক্তার গর্ভপাত করতে বলেন। কারণ, অপূর্ণাঙ্গ সন্তানের জন্ম দেওয়ার চেয়ে তাকে মায়ের পেটে থাকা অবস্থায় হত্যা করে দেওয়া শ্রেয়।

ঘানিমের মাতা-পিতা ডাক্তারদের এই সিন্ধান্ত মেনে নিতে পারলেন না।। কারণ, ইসলামের বিধান অনুযায়ী গর্ভপাত হলো চূড়ান্ত অপরাধ।

মাতা ইমান-উল-আবদেলি, এবং পিতা মুহাম্মদ-আল-মুফতাহ্ এটাকে মহান আল্লাহর সিন্ধান্ত হিসেবে মেনে নিয়ে, বিকলাঙ্গ সন্তানের জন্ম দিলেন। ঘানিমের মা তার পিতার উদ্দেশ্যে বলেন - আমি হবো সন্তানের বাম পা, আর, তুমি হবে তার ডান পা। আমরা দুজনে সন্তানকে কখনো নিম্নাংশের অভাব টের পেতে দেবো না।

৫-ই মে ২০০২ সালে পৃথিবীর আলো দেখেন ঘানিম। শিশুকাল থেকেই পদে পদে সামাজিক বঞ্চনার শিকার হয়ে পড়েন তিনি। স্কুল, খেলার মাঠ সহ বিভিন্ন জায়গায় তাঁকে অপমানিত করা হতো। তিনি এসবের তোয়াক্কা না করেই এগিয়ে যেতেন নিজ পথে, একেবারে নিজস্ব ছন্দে। বন্ধুদের বোঝাতেন - তাঁর অসম্পূর্ণ শরীরের জন্য তিনি মোটেও দোষী নন। আল্লাহ তাঁকে যে পরিমাণ অঙ্গ-প্রতঙ্গ প্রদান করে পাঠিয়েছেন, এর জন্য তিনি কৃতজ্ঞ।

বিখ্যাত অভিনেতা মরগান ফ্রিম্যান এর সাথে ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ

নিজের সহপাঠী, বন্ধুবান্ধব-কে এসব বোঝাতে বোঝাতে নিজের অজান্তেই তিনি হয়ে ওঠেন একজন মোটিভেশনাল স্পীকার।

একদিন যাঁর ভুমিষ্ট হওয়া নিয়েই যথেষ্ট সন্দেহ ছিলো, তাঁর হাতে উদ্বোধন হতে হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত এক প্রতিযোগিতার আসর।

কাতারের ২০ বছর বয়সী প্রতিবন্ধী যুবক ঘানিম আজ সেদেশের শান্তির দূত হিসাবে গোটা বিশ্ব দরবারে পৌঁছে গেছেন। এছাড়া তিনি একজন মোটিভেশনাল স্পীকার, কবি, সাহিত্যিক এবং দারুণ বক্তা হিসাবে আরব দুনিয়া তথা গোটা বিশ্বের কাছে সমাদৃত।

ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ একজন কাতারি ইউটিউবার এবং কাউডাল রিগ্রেশন সিন্ড্রোম সহ সমাজসেবী। ২০১৭ সালে, তিনি ১৫ বছর বয়সে কাতারের সর্বকনিষ্ঠ উদ্যোক্তা ছিলেন।

তিনি বর্তমানে তার বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী অর্জন করছেন, একজন কূটনীতিক হওয়ার একটি অত্যধিক লক্ষ্য নিয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে প্রধান হচ্ছেন। অক্ষমতা সত্ত্বেও, ঘানিম স্কুবা ডাইভিং, স্কেটবোর্ডিং এবং রক ক্লাইম্বিংয়ের মতো চরম খেলায় অংশগ্রহণ করতে পছন্দ করেন।

ঘানিম তিনি কাতার সরকারের প্রধান প্রতিনিধি হিসাবে বিশ্বের দরবারে নিজের পরিচিতি তুলে ধরলেন। এবং প্রতিবন্ধী হয়েও একজন শারিরীক সয়ংসম্পূর্ণ মানুষের থেকে তিনি কম নয় বরং বিখ্যাত, তার মনোবল থাকে এগিয়ে নিয়ে গেছে বহুদুরে। পৃথিবীতে যত প্রতিবন্ধী রয়েছে তাদের জীবনের সাফল্যের জন্য ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ এক হার না মানা যুদ্ধা এবং অনুপ্রেরণা।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ