About Me

কাতার বিশ্বকাপ মঞ্চে ঘানিমের যে বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছেন ইউরোপ আমেরিকা সহ অমুসলিমরা..

ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ'র সাথে হলিউড কিংবদন্তি মরগান ফ্রিম্যান 

কাতার বিশ্বকাপ মঞ্চে ঘানিমের যে বক্তব্য শুনে অবাক হয়েছেন ইউরোপ আমেরিকা সহ অমুসলিমরা..

ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ, তিনি কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এমন একটি বক্তব্য রেখেছেন, যে বক্তব্যে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকবৃন্দ, গ্যালারি ব্যতীত লাইভে সৌশ্যাল মিডিয়া এবং টিভি সেটে দেখা সকল ইউরিপিয়ান, আমেরিকান সহ অমুসলিম দর্শকরা অবাক হয়েছেন। এবং কেউ কেঁদেছেন কারন এটি এমন একটি বক্তব্য যা মানুষ সৃষ্টির মূল রহস্য দর্শকরা বুঝতে পেরেছে। অতীতে যারা মুসলিম নিয়ে বিদ্ধেষ করতো, কাতার বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তারা এর উত্তর পেয়ে গেছে। তাই ঘানিমের সু-মধুর কন্ঠে পূরো উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হয়ে উঠে আলোচিত।

কাতার বিশ্বকাপ ২০২২ এর অনুষ্ঠান উদ্বোধন করতে আসেন কিংবদন্তি আমেরিকার বিখ্যাত এবং বিশ্বের জনপ্রিয় হলিউড অভিনেতা-মরগান ফ্রিম্যান। এই অনুষ্ঠানে তিনি সঞ্চালনার দায়িত্বও পালন করেন। উদ্বোধনী মঞ্চে তিনি ঘানিমকে একটি প্রশ্ন করেছিলেন, তার উত্তরে ঘানিম এই বক্তব্যটি দেন এবং বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান পবিত্র এই সুরাটির আয়াত দ্বারা উদ্বোধন হয়।

কাতারের আল-বায়াত স্টেডিয়ামে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান থেকে ঘানিম -মুহাম্মদ আল-মুফতাহ'র কন্ঠে যে সুরাটি বিশ্বকে অবাক করেছে তার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:

অর্থ: হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি এক পুরুষ ও এক নারী হতে,পরে তোমাদেরকে বিভক্ত করেছি বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে, যাতে তোমরা একে অপরের সাথে পরিচিত হতে পার। তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদাসম্পন্ন, যে অধিক আল্লাহ-ভীরু। আল্লাহ সবকিছু জানেন, এবং সব কিছুর খবর রাখেন। সুরা: আল হুজরাত (আয়াত-১৩)

সংক্ষিপ্ত তাফসির:

অর্থাৎ, আদম ও হাওয়া عليهما السلام থেকে,  তোমাদের সকলের মূল একই। তোমরা সকলে একই পিতা-মাতার সন্তান। অতএব কারো কেবল কুলমান ও বংশের ভিত্তিতে অহংকার করার কোন অধিকার নেই। কারণ, সকলের বংশ আদম (আঃ)-এর সাথে গিয়ে মিলে যায়।

এ আয়াত সাম্যের এক মহা মূলনীতি বর্ণনা করেছে। বলা হয়েছে, কারও মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের মাপকাঠি তার জাতি, বংশ বা দেশ নয়; বরং এর একমাত্র মাপকাঠি হল তাকওয়া। সমস্ত মানুষ একই পুরুষ ও নারী অর্থাৎ হযরত আদম ও হাওয়া আলাইহিমাস সালাম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তাআলা যে বিভিন্ন জাতি ও বংশ বানিয়ে দিয়েছেন তা এজন্য নয় যে, এর ভিত্তিতে একজন অন্যজনের উপর বড়াই করবে, বরং এর উদ্দেশ্য কেবলই পরিচয়কে সহজ করা, যাতে অসংখ্য মানুষের ভেতর জাতি-বংশের উল্লেখ দ্বারা পরস্পরে সহজে পরিচিত হতে পারে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0 মন্তব্যসমূহ